৯৬। সূরা আল আলাক্ব (জমাটবাঁধা রক্ত)

সূরার মূল বিষয়বস্তুঃ

১ম-৫ম আয়াতে মানুষের প্রতি আল্লাহর দান, অনুগ্রহ এর কথা বর্নিত হয়েছে। ৬ষ্ঠ-৮ম আয়াতে আল্লাহর অনুগ্রহকে যথাযথ সম্মান না করে বরং বিরুদ্ধাচরন করার প্রবনতাকে তুলে ধরা হয়েছে। ৯ম-১৩ তম আয়াতে স্পেসিফিকভাবে উদাহরনের মাধ্যমে ঐ বিরুদ্ধাচরন করার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। ১৪- ১৮ তম আয়াতে আল্লাহ ঐ বিরুদ্ধাচরনকারী/ কারীদের পরিনতির কথা বলেছেন। ১৯ তম আয়াতে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরন না করে বরং তার অনুগত, নিকটবর্তী বান্দা হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে সূরার সমাপ্তি হয়েছে

বর্ননাঃ

সূরা আল আলাক্ব এর ১ম আয়াতটিই মহান আল্লাহ এর কাছে থেকে জীবরাঈল (আঃ) এর আনা মুহাম্মাদ (স) এর উপর নাযিলকৃত ১ম আয়াত। এই আয়াত থেকে কয়েকটি বিষয় জানতে পারিঃ

‘পড়’ বলা হয়েছে শুরুতেই যার অর্থ এটি কোন বই/কিছু থেকে পড়তে বলা হয়েছে। লাওহে মাহফুযে রক্ষিত আল কুরআনের লিখিত রুপ থেকেই এই বাক্যগুলো এসেছে যা পড়তে বলা হয়েছে। যদিও তখন জীবরাঈল (আঃ) মুখে মুখেই পড়তে/আবৃত্তি করতে বলেছেন, কোন লিখিত কিছু নিয়ে আসেন নাই।মুহাম্মাদ (স) নিরক্ষর হলেও আল্লাহ তাঁকে পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং মুহাম্মাদ (স) পড়েছেনও।

রব ও স্রষ্টার নামে পড়তে বলা হয়েছে কারন অজানা, নতুন ও নির্ভুল জ্ঞান একমাত্র তাঁর কাছ থেকেই আসা সম্ভব। স্রষ্টারই সবচেয়ে বেশি অধিকার আছে সৃষ্টির উপর। তাই তিনি জ্ঞানের সাথে সৃষ্টিকে সম্পৃক্ত করেছেন।

তখনকার আরবের মুল জ্ঞান ও সাহিত্য বেশিরভাগই লিখিত ছিলো না, কবিতা আকারে ছিলো এবং সেটা সাধারনত ছিলো স্মৃতি নির্ভর। কিন্তু আল্লাহর বানীর ১ম নির্দেশই ছিলোঃ “পড়ো” (৯৬ তম সূরা আল আলাক, আয়াত ১)। কিন্তু তখন মুহাম্মাদ (স) সহ বেশিরভাগ মানুষই পড়তে জানতো না। এমন একটি অশিক্ষিত জাতির কাছে পড়ার এই আহবান সত্যিই তাৎপর্যপূর্ন। সেই পড়ার নির্দেশের বাস্তবায়নের কারনে সেই মুসলিমরাই এক সময় হয়ে ওঠে সবচাইতে শিক্ষিত জাতি।
পড়া ও জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করার কারনে মুসলিমরা সেরা জ্ঞানী, বিজ্ঞানী হয়ে ওঠে। কুরআন এর উপর ভিত্তি করে অগনিত বই লেখা হয় এবং এখনও লেখা হচ্ছে। জ্ঞানের উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে ইসলামী সভ্যতা যা মানবতাকে দেয়ঃ আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার ধারনা, পিএইচডি ব্যবস্থার ধারনা, পড়া ও গবেষনার ধারনা ও অন্যান্য জ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ক ধারনা।


১ম আয়াতে সব কিছু সৃষ্টি করার কথা বলে স্পেসিফিকভাবে ২য় আয়াতে আলাক্ব থেকে মানুষের সৃষ্টির কথা বলেছেন। এর দ্বারা সৃষ্টি হিসাবে মানুষের আলাদা মর্যাদাটাকেও প্রকাশ করা হয়েছে। উৎপত্তিগত ভাবে ‘আলাক্ব’ শব্দটি ৩ টি শব্দের/বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত ১। জমাট বাঁধা রক্ত, ২। ঝুলন্ত ও ৩। জোঁক। আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষনায় এটা প্রমানিত হয়েছে যেঃ মানব ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থায় আল কুরআনের বর্ননা অনুযায়ী তা একই সাথে জমাট বাঁধা রক্ত, ঝুলন্ত জোঁক এর মতই আকৃতি বিশিষ্ট হয়। আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সাথে কি পারফেক্টভাবে মিলে যায় আল কুরআনের বর্ননা! আর এমন হবেই বা না কেন? সব জ্ঞান, বিজ্ঞানের উৎস ও আল কুরআনের উৎস যে এক আল্লাহই।


সুতরাং ২য় আয়াতে আল্লাহ বুঝিয়েছেন যে মানুষ অতি তুচ্ছ কিছু থেকে সৃষ্টি হলেও ৩য় আয়াতের বর্ননা অনুযায়ী মহানতম সত্ত্বা আল্লাহ তাঁকে জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টির সেরাতে পরিনত করেছেন এবং আবার পড়তে বলেছেন এবং এটা তার অন্যতম দান। সূরার ৪র্থ আয়াতে আল্লাহ বলেন যে, তিনি মানুষ কে শিক্ষা দিয়ছেন কলম এর মাধ্যমে।

আল্লাহ মানুষকে শেখার ও লেখার জ্ঞান দিয়েছেন। এটি অনেক বড় একটা দান। আল্লাহ সর্বজ্ঞানী; তিনি যেহেতু তাঁর কিছু জ্ঞান মানুষকে দিয়েছেন তাই মানুষ অন্যান্য সৃষ্টির চেয়ে সেরা হয়েছে। লিখিত বিদ্যা যুগ যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকে, আর মানুষ পড়ার মাধ্যমে তা জানতে পারে। এভাবে লেখা (অন্যরাও উপকৃত হওয়ার মাধ্যম) ও ১ম আয়াতে বর্নিত পড়া (নিজে উপকৃত হওয়ার মাধ্যম) এই দুয়ের সমন্বয় এর মাধ্যমে জ্ঞান টিকে থাকে।

এভাবে নিরক্ষর মুহাম্মাদ (স) এর কাছ থেকে জ্ঞান, পড়া, লেখা ইত্যাদি উচ্চমার্গীয় দর্শন লাভ করা একটি মোজেজাই বটে। মানুষ সাধারনত যেটা পারে না বা জানে না সে বিষয়ে কথা বলতে চায় না। মুহাম্মাদ (স) লেখা পড়ার এই কাঠামোগত জ্ঞান অর্জন না করেও এই সম্পর্কে বলেছেন, সুতরাং এটা প্রমান করে যে আল কুরআন তিনি নিজে বানান নি বা লিখেন নি বা এটা তাঁর মস্তিস্কপ্রসূত নয়।

আল্লাহ মানুষকে সব কিছু শিখিয়েছেন, শেখার ক্ষমতা ও জ্ঞান দিয়েছেন। মানুষ কিছু জিনিস দেখে দেখে শেখে; তা ছাড়াও অদৃশ্য জগতের কিছু বিষয়ও আল্লাহ শিখিয়েছেন যা তিনি ছাড়া অন্য কোন জ্ঞান, বিজ্ঞান বা সত্ত্বা শেখাতে পারে না; এ কথাই বর্নিত হয়েছে ৫ম আয়াতে।

১ম-৫ম আয়াতে বর্নিত আল্লাহ মানুষকে এত এত নিয়ামত দিয়ে ধন্য করার প্রতিদান হিসাবে মানুষ কি করে? ৬ষ্ঠ আয়াত অনুসারে চরম বিদ্রোহে মেতে ওঠে! এই বিদ্রোহের অন্যতম কারন হলো পরের আয়াতঃ (৭ম আয়াত) সে নিজেকে অভাবহীন মনে করে, স্বয়ংসম্পূর্ন মনে করে! অথচ তাঁর সূচনা ছিল নগন্য, তুচ্ছ আলাক থেকে যার কথা এসেছে ২য় আয়াতে। কিন্তু বেপরোয়া এই চিন্তা, কর্মকান্ড বিচার বিশ্লেষনের জন্য আখিরাত রয়েছে এবং সেখানে তার রবের কাছে তাকে ফিরে যেতেই হবে (আয়াত ৮)।

৬-৮ নং আয়াতে সাধারনভাবে মানুষের বিরুদ্ধাচরন এর কথা বলার পর স্পেসিফিকভাবে আল্লাহ উদাহরন দেয়া শুরু করেন ৯ম আয়াতে। এই আয়াতগুলো আবু জাহল কে ইঙ্গিত করে নাযিল হয়েছিলো। যদিও সব যুগের এমন ব্যক্তিদের জন্যই এই আয়াতগুলো খাটে। আবু জাহল ছিলো মুহাম্মাদ (সঃ) ও ইসলাম এর শত্রুদের মধ্যে সবচাইতে ভদ্র ও নীতিবান। এজন্য মুহাম্মাদ (সঃ) আবু জাহল বা উমার (র) যেকোন একজনের ইসলাম গ্রহনের জন্য দোয়া করেছিলেন। সুতরাং তার মধ্যে সম্ভাবনা থাকলেও সে বিরুদ্ধাচরন করে নিজের অহংকার এ অটল থাকে।

ইসলামের নানা কাজে বাঁধা দেয়ার পাশাপাশি সে মুহাম্মাদ (সঃ) এর নামাজ পড়া অবস্থাতেও নানা ভাবে (মৌখিক বাঁধা, ঊটের নাড়িভুড়ি চাপিয়ে দেওয়ার নির্দেশ, গলায় কাপড় পেঁচিয়ে দেওয়ার নির্দেশ, সরাসরি বাঁধা দেয়ার চেষ্টা) বাঁধা দিয়েছিলো যা বর্নিত হয়েছে ৯ম ও ১০ আয়াতে।

এরপরে ১১-১২ আয়াতে তারই বিপরীত ধরনের মানুষ মুহাম্মাদ (স) ও মুমিনদের কথা বলা হয়েছে। তারা সঠিক পথে থেকে আল্লাহকে ভয় করে নিজেদের রক্ষা করার কথা বলছে, অর্থাৎ ভাল, কল্যাণের কথা বলছে, সেদিকে ডাকছে কোন প্রতিদানের আশা ছাড়া।

আল্লাহ এখানে প্রশ্ন করলেন, এবং বোঝালেন, সে যদি হেদায়াত পেত তাহলে কেমন হতো? সে হেদায়াত পাওয়ার জন্য উপযুক্ত হলেও নিজের কারনে হেদায়াত থেকে দূরে থেকেছে। সে নিজে আল্লাহকে ভয় করেনি এবং আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে অন্য অনেককে সাহায্য করার কাজও করেনি। বরং সে অহংকারের বশবর্তি সত্যের প্রতি মিথ্যা আরোপ করে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তাঁর সব কাজ যে আল্লাহ দেখছেন তা ভুলে যায় বা বিষয়টি আমলে নেয় না। সে মনে রাখে না যে, আল্লাহ তাকে দেখছেন, এসব বিষয় এসেছে আয়াত ১৩-১৪ তে

এর ফলাফল আল্লাহ বর্ননা করেছেন পরের কয়েকটি আয়াতে। কপালের চুল ধরে হেঁচড়ানোর কথা বলেছেন আল্লাহ। কপালের নিচেই থাকে মাথার খুলি; আর তাঁর নিচেই মানুষের ব্রেইন। ব্রেইনের সামনের অংশকে Frontal Lobe বলা হয়। ব্রেইনের এই অংশ মূলত চলাচল, নড়াচড়া, সত্য মিথ্যার বিচার, চিন্তা-ভাবনা ইত্যাদি কিছু বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। এই নির্দিষ্ট অংশই কথা যেহেতু চলাচল, নড়াচড়া (দৈহিক বিরুদ্ধাচরন এর কাজ) এবং মিথ্যা বলা, পাপ কাজ এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন (মানসিক বিরুদ্ধাচরন) এর সাথে সংশ্লিষ্ট তাই মাথার বা ব্রেইনের অন্য অংশের কথা না বলে এই অংশের কথাই আল্লাহ বলেছেন এবং এই অংশকেই হেঁচড়ানোর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। আল কুরআন নাযিলের সময় এই বিষয়টি বোঝা না গেলেও বর্তমান বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে কত সুন্দরভাবে তা বোঝা যাচ্ছে! কি নিখুত আল্লাহর শব্দচয়ন!
১৭ ও ১৮ নং আয়াতে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরন কারীর সমর্থক, সঙ্গী সাথীদের বিপরীতে আল্লাহর বাহিনীর কথা বলা হয়েছে। তাঁর এই অবাধ্যতা, স্বেচ্ছাচারিতা, বেপরোয়া ভাবের পিছনে শক্তি হিসাবে কাজ করছিল তাঁর গোত্র, বড় বড় নেতাদের সমর্থন। কিন্তু এখানে আল্লাহ ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন যে তাঁর/তাদের যাকে ইচ্ছা হয় ডেকে নিক কিন্তু আল্লাহর বাহিনী ফেরেশতাদের মোকাবেলায় তারা অতি তুচ্ছ, নগন্য বিবেচিত হবে।

১৯ তম (শেষ) আয়াতে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরনকারীদের অনুসরন করে, তাদের (১০ নং আয়াতে বর্নিত) কথায় ও কর্মকান্ডে ভীত হয়ে আল্লাহর থেকে দূরে থাকা নয় বরং আল্লাহর বড়ত্ব মেনে নিয়ে তাঁকে সিজদা করে নৈকট্য অর্জন করার নির্দেশ এসেছে। আসুন আমরাও সিজদা করি কারন এটা সিজদার আয়াত।

সারসংক্ষেপঃ
সূরাটির সারসংক্ষেপ করতে গেলে মোটা দাগে ৫ টি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। ১ম-৫ম আয়াতে মানুষের প্রতি আল্লাহর দান, অনুগ্রহ এর কথা বর্নিত হয়েছে। ৬ষ্ঠ-৮ম আয়াতে আল্লাহর অনুগ্রহকে যথাযথ সম্মান না করে বরং বিরুদ্ধাচরন করার প্রবনতাকে তুলে ধরা হয়েছে। ৯ম-১৩ তম আয়াতে স্পেসিফিকভাবে উদাহরনের মাধ্যমে ঐ বিরুদ্ধাচরন করার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। ১৪- ১৮ তম আয়াতে আল্লাহ ঐ বিরুদ্ধাচরনকারী/ কারীদের পরিনতির কথা বলেছেন। ১৯ তম আয়াতে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরন না করে বরং তার অনুগত, নিকটবর্তী বান্দা হওয়ার জন্য সিজদা করার নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে সূরার সমাপ্তি হয়েছে।

আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ
মূলত আগের কয়েকটি সূরার সাথে এই সূরার যোগসূত্র রয়েছে। ৯২ তম সূরা আল লাইল, ৯৩ তম সূরা আদ দুহা, ৯৪ তম সূরা আল ইনশিরাহ ও ৯৫ নং সূরা আত ত্বীন এর সাথে মিলিয়ে পড়লে ও চিন্তা করে দেখলে এই মিল পাওয়া যায়। সূরা আল লাইলে মূলত ভালো মানুষের একটি স্তর (সাহাবী) এর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরের ২ টি সূরায় সরাসরি মুহাম্মাদ (স) এর কথা এসেছে। সূরা দুহায় মুহাম্মাদ (স) কে সান্তনা দেওয়া হয়েছে ও তাঁর প্রতি অনুগ্রহ বর্ননা করা হয়েছে এবং সূরা আল ইনশিরাহ তে মুহাম্মাদ (স) কে সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। অর্থাৎ সূরা আস শামস এ আগের ৩ টি সূরায় ভালো (সফল) ও খারাপ (বিফল) ২ ধরনের মানুষের কথা আনার পর আল্লাহ ৯২-৯৪ এই ৩ সূরায় মানুষের ভালো থেকে ভালোর দিকে অর্থাৎ উচু থেকে উচু স্তরে ক্রমানুসারে উঠিয়েছেন (সাহাবী-নবী মুহাম্মাদ)। এরপর আল্লাহ আবার মানুষের নিচু থেকে নিচু স্তরে নামিয়ে দিয়েছেন ৯৫ তম সূরা আত ত্বীন এ। এবং এই সূরায় নিচু স্তরের একজনের নির্দিষ্ট উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ। কি অসাধারন সিকুয়েন্স!!!
আগের (৯৫ নং) সূরা আত ত্বীন (goo.gl/XhX1d7) এ আল্লাহর নবীদের বড়ত্বের কথা বলা হয়েছে (আয়াত ১-৩), ৯৬ নং সূরা আল আলাক্ব এ আল্লাহর বড়ত্বের কথা বলা হয়েছে (আয়াত ৩)। সূরা আত ত্বীন এ মানুষকে উত্তম করে সৃষ্টি করা হয়েছে তা বর্নিত হয়েছে (আয়াত ৪), সূরা আল আলাক্ব এ মানুষ যে উত্তম তাঁর নমুনা (শিক্ষাগ্রহন) বর্ননা করা হয়েছে (আয়াত ৪-৫)। ত্বীন এ মানুষকে নিচু থেকে নিচু স্তরে নামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এসেছে আয়াত ৫ এ অন্যদিকে আলাক্ব এ নিচু থেকে নিচু স্তরে নেমে যাওয়ার কারন বর্নিত হয়েছে আয়াত ৬-১৪ তে। প্রথমে (আত্মিক) ঈমান ও পরে (দৈহিক) কাজ এর কথা এসেছে (আয়াত ৬) ত্বীন এ যার বিপরীতে প্রথমে (দৈহিক) কাজ ও পরে (আত্মিক) ঈমান এর কথা এসেছে আলাক্ব এ আয়াত ১৯ তে।


পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ

এই সূরা আল আলাক্ব এ আল্লাহর ওহি কিভাবে (How?) এসেছিলো তার বর্ননা আছে। পরের (৯৭ নং) সূরা আল ক্বদর (goo.gl/mceSpJ) এ ওহি কখন (When?) নাযিল হয়েছে তার বর্ননা এসেছে।

সূরা আল আলাক্ব এবং সূরা আল ক্বদর; উভয়ই আল কুরআনের কথা দিয়ে শুরু হয়েছে। ৯৬ নং সূরায় পড়তে বলা হয়েছে, আর ৯৭ নং সূরায় কি পড়তে হবে তা বলা হয়েছে।
আল সূরা আল আলাক্ব এর শেষে আল্লাহর দরবারে সিজদাহ করার কথা ও তাঁর নিকটবর্তি হওয়ার কথা এসেছে। এই সূরার প্রথমেই লাইলাতুল কদরের কথা এসেছে যেই রাতেই কিনা আল্লাহর দরবারে সবচাইতে বেশি সিজদাহ করা হয় ও তাঁর নিকটবর্তি হওয়ার চেষ্টা করা হয়। অর্থাৎ আল্লাহ শুধু আদেশ দিয়েই থেমে থাকেননি, আদেশ বাস্তবায়নের পথও দেখিয়ে দিয়েছেন।

আরো কয়েকটি সূরা সম্পর্কে পড়তেঃ goo.gl/LqecG4

রেফারেন্স ও কৃতজ্ঞতাঃ বিভিন্ন তাফসীর, বিশেষ করে Nouman Ali Khan এর তাফসীর, বিভিন্ন লেকচার, Darul Arqam Studios এর ভিডিও ইত্যাদি।
উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ